শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

কক্সবাজারের রামু খুনিয়াপালং এলাকায় মাদক কারবারি কর্তৃক সাংবাদিক অপহরণ ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামি ২৯

নিজস্ব প্রতিনিধি
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ pm
১৮
কক্সবাজারের রামু খুনিয়াপালং এলাকায়  মাদক কারবারি কর্তৃক সাংবাদিক অপহরণ ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আসামি ২৯

কক্সবাজারের রামু খুনিয়াপালং এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে মাদক চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী চক্রের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন তিন সংবাদিক। রামু পাইনবাগান সড়ক থেকে মোটরসাইকেলসহ  উঠিয়ে নিয়ে টোঙ্গারডেবার বনের নির্জন  স্থানে নিয়ে  টানা ২ ঘণ্টা মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানোর পর মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে সন্ত্রাসীরা। 
গত ২৭ আগষ্ট বিকালে পাইনবাগান সড়কে ও টোঙ্গারডেবা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরহরণ ও মারধরের শিকার সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম তাঁর দুই সহকর্মী রমজান আলী ও হারুনুর রশিদকে নিয়ে রামুর খুনিয়াপালং  এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহে যান ৩ সাংবাদিক। ওই এলাকার স্থানীয় এক মাদক কারবারীর তথ্য সংগ্রহ শেষে মোটরসাইকেলযোগে পাইনবাগান সড়ক দিয়ে কক্সবাজার ফেরার পথে
বটগাছ তলা’ এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ৪ টি মটরসাইকেল নিয়ে এসে  তাঁদের গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্র, রামদা, ধারালো ছুরি ও লোহার রড উঁচিয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ফেলে  মারধর শুরু করে। মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক মটরসাইকেলসহ তাদের অপহরণ করে।

এর পর তারা  সেখানকার নির্জন বনে নিয়ে ১৫ মিনিট ধরে মারধর করে। স্থানীয় কয়েকজন তাদের এ ধরনের ঘটনার ​প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদেরকে সেখান থেকে টোঙ্গারঢেবা মসজিদের বারান্দায় নিয়ে একদল উৎশৃঙ্খল যুবকের হাতে তুলে দেয়। সেখানে নিয়ে মব সৃষ্টি করে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে মাদক কারবারিরা। একপর্যায়ে গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের মুক্তিপণ দাবী করে। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাদের নিজস্ব মেবাইল থেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক চেয়াম্যান আব্দুল মাবুদের সাথে কথা বলতে শুনা যায়। তিনি ওই এলাকার আশপাশে অবস্থান নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। 

নুরুল আমিন নুরু চেয়ারম্যানের নির্দেশ মেনে ঘটনার বাস্তবায়ন করেছেন। মসজিদের বরান্দায় জিম্মি করে সাংবাদিকদের পকেটে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগীদের মুঠোফোন ব্যবহার করে স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সাথে রামদার মুখে জিম্মি রেখে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করে চক্রটি।

ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা দ্রুত রামু থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মি সাংবাদিকদের ফেলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল হক জানান, "সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারের ভিত্তিতে মূল অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর হামলার ঘটনায় কক্সবাজারের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
​ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা (বাসাস)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের অপহরণ করে নির্যাতন চালানোর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।

আমরা অবিলম্বে এই মামলার প্রধান আসামিসহ জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

​অন্যদিক, স্থানীয় দাবি বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং চেয়ারম্যান মাবুদকে মামলা থেকে বাঁচাতে কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁকে আড়াল করতে এমনকি মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!