মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরের সদর থানা পুলিশ একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার একটি ডোবা থেকে নিহত সৌরভ আহমেদ (২০)-এর কংকালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ আহমেদ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা দায়ের করা হলে সদর থানার তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি মোঃ শাহিনকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত সৌরভের বোন নুপুর প্রায় চার বছর আগে রবিউল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে নুপুর স্বামী রবিউলকে ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবিউল ইসলাম প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিউল ইসলাম ও শাহিন কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যান। পরে গত ৩ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে গুম করে রাখে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন অংশ নিয়েছিল। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি রবিউল ইসলাম ও শাহিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগ।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।