ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাইয়ে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ) রাতে সাভার মডেল থানা ও ধামরাই থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির পৃথক দল অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। এ সময় কথিত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান আশিক (২৫) ও মো. তৌহিদুল ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আশিকুর রহমান আশিক সাভারের শ্যামপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। অপর গ্রেপ্তার মো. তৌহিদুল ইসলামও একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে পুলিশ দাবি করেছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন এসআই (নিঃ) মনির হোসেনসহ ডিবির একটি দল।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানাধীন আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ অভিযানে আনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, আনোয়ারা বেগম আমিনবাজার বড়দেশী এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ওজন প্রায় ৪ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে ডিবি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মো. রাশেদ মিয়া।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে এর আগে মাদকসংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন সামাইর এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির আরেকটি দল।
এ সময় মো. মামুন (৩১), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও মো. জহির মিয়া (২৭) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে মোট ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ২০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাৎ হোসেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মো. মামুনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ও একটি মাদক মামলা রয়েছে। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা রয়েছে।
এদিকে একই রাতে ধামরাই উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)।
পুলিশ জানায়, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মো. সোহেল (৩৫) ও জাকারিয়া সরদার তুহিন (২৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মো. আরিফুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার মো. সোহেলের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকায়। তিনি বর্তমানে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপর গ্রেপ্তার জাকারিয়া সরদার তুহিনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা এলাকায়। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, জাকারিয়া সরদার তুহিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি মামলা রয়েছে।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে সাভার ও ধামরাইয়ে পরিচালিত পৃথক চারটি অভিযানে মোট ৩৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে শ্যামপুর থেকে ৫০ পিস, আমিনবাজার বড়দেশী থেকে ৪০ পিস, সামাইর এলাকা থেকে ২০০ পিস এবং ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের হিসাবে উদ্ধার করা ইয়াবার মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।