বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ: অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

মোঃগোলাম কিবরিয়া
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ pm
১১
দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ: অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
জলদস্যুর গোলা রারুদ ও অস্ত্র

গোলাম কিবরিয়া তুহিন

খুলনাঃ

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি দস্যু বাহিনীর ৫৯ জন সদস্য র‍্যাব-৬ এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র‍্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের মহাপরিচালক *এম. আহসান হাবীব পলাশ*। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটল।

র‍্যাব সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে *বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন*, *আনারুল বাহিনীর ১৩ জন*, *আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন*, *আফতাব বাহিনীর ৮ জন* এবং *মিজান বাহিনীর ৭ জন* সদস্য রয়েছেন।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোট *৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র*। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান ও ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল। পাশাপাশি উদ্ধার হয় ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় দস্যুদের তৎপরতার কারণে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ছিল। দস্যুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার ফলে অপরাধীদের একটি অংশ অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। যারা এখনও সক্রিয় আছে তাদেরও দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

র‍্যাব জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তারা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য পুনর্বাসন কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম মেনে সুন্দরবন আবার উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগে দস্যুদের বড় একটি অংশের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবিকা ও পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

র‍্যাব আরও জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!