বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের ১০ দফা দাবি, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ pm
শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের ১০ দফা দাবি, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

হাওরাঞ্চলের কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটি। দাবিগুলো বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেওয়া স্মারকলিপিতে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষি উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা, ফসল রক্ষা বাঁধ, জলমহাল ইজারা, বালু-মাটি উত্তোলন, বজ্রপাত ও জলাবদ্ধতাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর হাওরের কৃষকরা ফসলহানির ঝুঁকিতে পড়েন। একই সঙ্গে নদী ও হাওর থেকে অবাধে বালু-মাটি উত্তোলন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং জলমহাল ইজারার কারণে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা সংকুচিত হচ্ছে। হাওর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে হারভেস্টার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মহাসিং নদী থেকে সৃষ্ট উথারিয়া গাংয়ের ইজারা বাতিল করে এটিকে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণা এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।

এ ছাড়া হাওরে বাঁধ ও প্রয়োজনীয় জলকপাট নির্মাণ করে স্থানীয় জনগণকে তা ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা, বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ করে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে ছয় মাসের খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে গবাদিপশুর খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে কমিটি গঠন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে কৃষিঋণ মওকুফ এবং মহাজনী ঋণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাওরাঞ্চলে সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা চালু, কৃষি উপকরণ সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি শস্য ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা করার দাবিও রয়েছে স্মারকলিপিতে।

এ ছাড়া হাওর থেকে মূল সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত না হয় এমন পাকা সড়ক নির্মাণ, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নদীতে অপসারণের জন্য বৈজ্ঞানিক জরিপ, প্রতিবেদন প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, হাওরাঞ্চলের কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর সরকারি উদ্যোগের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে এগারোটায় জেলা শহরের আলফাত স্কয়ারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পরে দুপুর সাড়ে বারোটায় সমাবেশ থেকে দশ দফা দাবিতে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্হান নেয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দুপুর একটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এর নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,

সংগঠনের সমন্বয়ক সাহেব আলী, ফয়জুল খাঁ,আব্দুল ওয়াহাব,সফাত উল্লাহ।

আবিদুল হক সহ অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষে ১০ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের দাবীসমূহ আমলে নিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!