বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

৭০ মণ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক, পরিদর্শন করলেন কৃষি কর্মকর্তা

মোঃ লিটন
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ pm
৭০ মণ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক, পরিদর্শন করলেন কৃষি কর্মকর্তা
ছবি: কৃষি কর্মকর্তাদের পেঁয়াজ বীজ পরিদর্শন

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক আবু তালেব। চলতি মৌসুমে ৩৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে প্রায় ৭০ মণ বীজ উৎপাদন করেছেন তিনি । স্থানীয়ভাবে কালো সোনা খ্যাত এই পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে তার সফলতা কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

তার এই সাফল্যে বুধবার উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে কৃষক আবু তালেবের বাড়িতে পেঁয়াজের বীজ পরিদর্শন করেন জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শওকত হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ।

কৃষক আবু তালেব বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজের বীজ চাষের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সাল থেকে অল্প পরিসরে শুরু করে পর্যায়ক্রমে চাষের পরিধি বাড়িয়েছেন। চলতি মৌসুমে তিনি মোট ৩৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করেছেন।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের বীজ চাষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমনির্ভর। প্রতিকূল আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি, রোগবালাই ও পোকামাকড়সহ নানা সমস্যার কারণে এ চাষে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় এবং বিঘাপ্রতি প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৩৩ বিঘা জমিতে তার প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

এ মৌসুমে তিনি প্রায় ৭০ মণ বীজ উৎপাদন করেছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই বীজ বিক্রি করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

আবু তালেব আরও বলেন, তিনি একসময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন এবং বর্তমানে ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজ করছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা তাকে এ কাজে উৎসাহ ও সহায়তা দিয়েছে। বেকার ও নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষ করলে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পরিদর্শন শেষে কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শওকত হোসেন ভুইয়া বলেন, কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। কুষ্টিয়া জেলায় বছরে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা হয়।

এ বছর সফল উদ্যোক্তা আবু তালেব প্রায় ৩৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে প্রায় ৭০ মণ বীজ সংগ্রহ করেছেন। এসব বীজের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। এই উৎপাদনের মাধ্যমে জেলার পেঁয়াজ বীজের প্রায় ৩০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে তিনি এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!