পাবনায় ৯ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজা গাছসহ দেওয়ান ইন্তাজ আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। একই অভিযানে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে আরও পাঁচ মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, উপ-পরিদর্শক সোহানের নেতৃত্বে পাবনা সদর উপজেলার মজিদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত দেওয়ান ইন্তাজ আলীর নিজ দখলীয় বসতবাড়িতে চাষাবাদ করা ৯ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দেওয়ান ইন্তাজ আলী পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মজিদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত দেওয়ান খোরশেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ডিএনসির উপ-পরিদর্শক সোহান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবনা সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত তাসনিম বর্ষা এবং ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর এবং ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া এলাকার বিভিন্ন মাদকস্পট থেকে পাঁচ মাদকসেবীকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার গোবিন্দা এলাকার মো. সেতু (৪০), আতাইকুলা থানার তেলকুপি গ্রামের মো. হালিম (৫০), ঈশ্বরদীর মুলাডুলি এলাকার আব্দুল রাজ্জাক (৩৯), মালিথাপাড়া এলাকার মো. হানিফ (২১) এবং দাশুড়িয়া এলাকার মো. শহীদুল ইসলাম রুবেল (৪৪)।
ডিএনসি পাবনার পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম, উপ-পরিদর্শক সোহান, উপ-পরিদর্শক মো. জামালুর রহমান এবং উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ডিএনসির অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত মাদক অপরাধের সঙ্গে জড়িত মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।