মোঃ আশরাফুল ইসলাম
পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক পঞ্চগড় পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র এবং পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম আর নেই। গতকাল রাজধানীর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পঞ্চগড়জুড়ে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। বিশেষ করে সাবেক পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পাঁচবার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততারই প্রতিফলন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি পঞ্চগড় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, তহিদুল ইসলাম ছিলেন সৎ, নীতিবান ও পরহেজগার মানুষ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন। মানুষের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে তিনি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন বলে তাঁর পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন।
রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ন্যায় ও নীতির পক্ষে থাকার চেষ্টা করতেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।
তহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে বোদা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
তহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
পঞ্চগড়ের রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণে তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।