সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রক্ষায় অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত

মো গিয়াস উদ্দীন
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০ pm
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রক্ষায় অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিথিদের ছবি।

উখিয়া উপজেলা স্যাটেলাইট সেন্টারে সম্প্রতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী (হোস্ট কমিউনিটি) ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, আইনজীবী, হোস্ট কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।জার্মান সহায়তা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প ভাবনা সভার শুরুতে জার্মান সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি তাদের চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে ৭ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও ১ কোটি টাকা এই তহবিলে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা উখিয়া, টেকনাফ কিংবা ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করা হতে পারে।ভবিষ্যতে এই প্রজেক্টের অর্থ কোন কোন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সভায় উপস্থিত সকলের কাছ থেকে উন্মুক্ত মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়।অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশউন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন গঠনমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা দমনের ব্যাপারে বিশেষ করে তাদের গুষ্টিগত সশস্ত্র সংগঠন আইএসও আরশা দমনের বিষয়টি তুলে আনেন এপিবিএন প্রতিনিধি। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মূলক কার্যক্রম বিশেষ করে অপহরণ মাদক পরিবহন ইত্যাদি কাজের সম্পৃক্ত হয়ে পড়তেছে এবং তারা যে মোবাইল সিম ব্যবহার করতেছে সেগুলো বাংলাদেশী নাগরিকদের নামে এতে তাদের অপহরণ প্রবণতা করতে করতে দ্বিধাবোধ করতেছে না। তাই তাদেরকে তাদের নিজস্ব আইডি দিয়ে বা রেশন কার্ডের আইডি দিয়ে সিম সরবরাহ করা যায় কিনা সেই বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

আলোচনার প্রেক্ষিতে সভার প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব পান্না আক্তার মহোদয় তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সুন্দরভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন এবং নিচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান: রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধের অপরাধ প্রতিরোধ ও চলমান উন্নয়ন: স্থানীয় এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার পাশাপাশি চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলোর গতি বজায় রাখার দিকে নজর দিতে হবে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশীদের সহায়তায় জন্ম নিবন্ধন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সজাগ দৃষ্টি: বিভিন্ন নামে রোহিঙ্গাদের নতুন করে নিবন্ধন বা আইডি তৈরির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সতর্ক হতে হবে দুজনের জনস্বার্থে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর প্রতি ইঙ্গিত দেন এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে জানান ।তিনি আরো বলেন এনজিওরা যে কাজগুলো করতেছে সেগুলো যেহেতু আমাদের দেশের কোন না কোন উপকারে আসতেছে তাই তার দিক থেকে তিনি যত ধরনের সহযোগিতা করা দরকার তিনি তাদেরকে সুস্থ করেন তিনি সহযোগিতা করবেন।

স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ: এনজিও ও বিভিন্ন সংস্থায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির লোকজনকে তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।পরিশেষে, সভায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!