সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

মোড়লগঞ্জে গভীর রাতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

রাসেল শেখ বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ am
মোড়লগঞ্জে গভীর রাতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৪৮ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের দুই দিন পর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাকিব হাওলাদারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে তার বড় ভাই শামীম হাওলাদারের বসতঘরসহ মোট দুটি ঘরে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ।

ছাত্রদল নেতা রাকিব হাওলাদার বলেন,আমি এই ঘেরের মালিক নই। ঘেরটির প্রকৃত মালিক আমার চাচাতো ভাইসহ আরও কয়েকজন। অথচ আমাকে ঘেরসংক্রান্ত মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। এমনকি দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও আমাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আমার ইন্ধনেই নাকি এই ঘের পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রায় ৪৮ বিঘা জমির এই ঘেরটি আমার চাচাতো ভাইয়েরা জমির মালিকদের কাছ থেকে হারি (ইজারা) নিয়ে পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে তাদের বাপ-দাদার প্রায় আট বিঘা জমিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারাই ঘেরটি পরিচালনা করে আসছেন।

আমি যখন ঘেরের মালিকই নই, তখন আমাকে কেন মামলায় প্রধান আসামি করা হলো এবং কেন আমার বসতঘরে আগুন দেওয়া হলো—এটাই আমার প্রশ্ন। শুধু আমার ঘর নয়, আমার ভাইয়ের ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও আমি হামলা-মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন আবার এমন ঘটনায় আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমার দাবি।

রাকিবের বড় ভাই শামীম হাওলাদারের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, ঘের নিয়ে মামলা থাকায় ঘটনার রাতে বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। তিনি দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় হঠাৎ শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় চিৎকার করে ডাকাডাকি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি ঘর পুড়ে যায় বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘেরের পাহারাদার শহিদ ইসলামের স্ত্রীও অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী প্রায় তিন মাস ধরে ওই ঘেরে পাহারাদারের কাজ করছেন। ঘেরের মালিক না হয়েও তাকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাত রয়েছে এবং হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে জখম হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘেরের বাসাতেও আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

ঘেরের মালিক ইমরান হাওলাদার বলেন, “আমার বাবা ও দাদার মালিকানাধীন প্রায় আট বিঘা জমির পাশাপাশি অন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে মোট প্রায় ৪৮ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছি। আমরা নিয়মিত ইজারার টাকা ও জমির পাওনা পরিশোধ করেই ঘের পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু জাহিদ মাস্টার ও জুয়েলসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী তিনবার আমাদের ঘেরে হামলা করেছে এবং জোর করে ঘের দখলের চেষ্টা করেছে। এ সময় আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘেরের এক কর্মচারীকে কুপিয়ে আহত করা এবং ঘেরের বাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এসব ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। পরে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা ও হামলার কারণে আতঙ্কে পরিবারের অনেকেই বাড়িছাড়া রয়েছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমার চাচা রাকিব এই ঘেরের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়, অথচ তাকে মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এরপর তার ও আরেক ভাইয়ের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

আমরা কোনো সংঘাত চাই না। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক এবং তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমাদের দাবি।

এর আগে গেল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে মৎস্য ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাজিব হাওলাদার, মারুফ হাওলাদার, সজিব হাওলাদার, আজমির, লিয়াকত হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদারসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের কয়েকজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এটি গভীর রাতের ঘটনা। দুই দিন আগে ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাকিব হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। রাকিবের ঘরটি শত্রুতার কারণে কেউ পুড়িয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!