শ্রীপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
গাজীপুরে সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দর্শনার্থী শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গতকাল সাফারি পার্কে বেড়াতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে এক দর্শনার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন বনকর্মী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তার কাছ থেকে একটি ২২ ক্যারেটের সোনার চেইন, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি তার চার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে পার্কের এ.সি.এফ তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এমন গুরুতর ঘটনার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাই নয়, পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীর দাবি, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাবে পার্কের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মীদের আচরণ ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যদি কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে হামলা বা লুটপাটের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত হামলা, লুটপাট ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বন বিভাগের কর্মী ও পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া পাওয়া যায়নি
প্রশ্ন উঠছে—সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? অভিযোগের পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ দর্শনার্থীরা কোথায় নিরাপত্তা পাবেন?
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক