শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

দুই দিন পর নদী থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার

আল আমীন সরদার
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ pm
৪১
দুই দিন পর নদী থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার

আল আমীন সরদার

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু ফারিয়া আক্তার হাবিবার মরদেহ প্রায় দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সখিপুর থানার মাধু সরকারের কান্দি এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক সরকারের বড় ব্রিজের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফারিয়া আক্তার হাবিবা গোসাইরহাট উপজেলার বালুচর এলাকার কাশেম আখনের মেয়ে। সে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল ফারিয়া।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফারিয়া আরও দুই শিশুর সঙ্গে স্থানীয় পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তিন শিশু পানিতে ডুবে গেলে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ফারিয়াকে তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরে মাদারীপুর থেকে ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। নদীতে তীব্র স্রোত, পানির গভীরতা এবং বালুবাহী নৌযান চলাচলের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।

ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আমিন হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে তল্লাশি চালান। পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর শুক্রবার বিকেলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরে শুক্রবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু সরকার বলেন, ফারিয়া নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর থেকেই স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেছেন এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ফারিয়ার বাবা কাশেম আখন বলেন, ‘আমার মেয়েকে আমাদের বাড়ি বালুচরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিবেশ।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!