সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে তুষের আড়ালে লুকিয়ে কাভার্ডভ্যানে করে আনা ৩ হাজার ৮৫০ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ফুচকা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যানও।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার এলাকায় বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে অভিযান চালিয়ে এসব ফুচকা জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম গোয়ালচামাত এলাকার আরিফ শেখ (৩৪), পিতা শেখ মো. ফারুক এবং একই উপজেলার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার জিহাদ ফাকির (৩৪), পিতা আব্দুল করিম ফকির।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল বিশ্বম্ভরপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। কাভার্ডভ্যানের ভেতরে তুষ দিয়ে মালামাল এমনভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে দেখে মনে হয় গাড়িতে শুধু তুষ পরিবহন করা হচ্ছে। পরে তুষ সরিয়ে ভেতরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফুচকা পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, কাভার্ডভ্যান থেকে ১১০টি প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ৩ হাজার ৮৫০ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৩৫ কেজি করে ফুচকা ছিল।
জব্দ করা ফুচকার আনুমানিক মূল্য প্রতি কেজি ৪০০ টাকা হিসেবে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ফুচকা পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৯৭৭৮ নম্বরের কাভার্ডভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
ফুচকা ও কাভার্ডভ্যানসহ জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হযরত আলী বলেন, “জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. মাহমুদুল হাসান, এএসআই খাদেমুল ইসলাম, কনস্টেবল ফরিদ মিয়া, দীপক মুন্ডা ও মোশারফ হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। কাভার্ডভ্যানে থাকা ভারতীয় ফুচকাগুলো তুষ দিয়ে এমনভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় না থাকে যে এর ভেতরে ফুচকা রয়েছে।”
তিনি বলেন , এ ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।