মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাণীগঞ্জে অবস্থিত ইসলামিক মিশনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এলাকার দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক মিশনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়—এই দুই জেলার মধ্যে একটি মাত্র ইসলামিক মিশন থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রোগীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হয়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রোগীদের মাত্র ৫ টাকা এবং অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ১০ টাকা টিকিট কাটতে হয়।
বর্তমানে ইসলামিক মিশনে ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো হলো—সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, প্রোগ্রাম অফিসার, ফার্মাসিস্ট, হোমিও কম্পাউন্ডার ও এমএলএস। জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাসে মাত্র দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে হিসাব সহকারী সপ্তাহে এক দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে নিয়মিত জনবল নিয়োগ জরুরি।
প্রতিদিন অ্যালোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি বিভাগে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে এবং এ অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
রাণীগঞ্জ ইসলামিক মিশনের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডাঃ শুকুর মাহমুদ সরকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।