নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা থাকলেও বাস্তবে একদিন প্রশিক্ষণ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মান্দা উপজেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দ থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন ছাত্রীকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখানো হয়। তবে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজনের দাবি, কার্যক্রমটি একদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষকের প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। চারজন প্রশিক্ষকের জন্য দুই দিনের ভাতা হিসেবে ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও একজন প্রশিক্ষক একদিনের জন্য ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, “গত ১৫ জুন মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে আমি ৩ হাজার টাকা পেয়েছি।” দুই দিনের প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি একদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং একদিনের ভাতা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছেও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিনজন ছাত্রী প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়। তবে প্রশিক্ষণ ভাতার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
প্রসাদপুর ইউনিয়নের বিদ্যা মাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ভারতী রাণী বলেন, ছাত্রীদের হাতে পানির বোতল ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া হিসেবে ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। ইউএনও কার্যালয় থেকে তাকে ডেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়েও তাকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে টাকা দেওয়া নিরাপদ নয় বিবেচনা করে তাদের স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য কিছু টাকা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের হাতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখিত বরাদ্দ, প্রশিক্ষণের মেয়াদ, উপস্থিতির সংখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের ভাতা প্রদানের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে প্রকল্পের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং বরাদ্দ অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও হিসাব পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।