বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় লিটন মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ pm
ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যায় লিটন মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মামুন মিঞা 
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে (৫০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ ও জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৬ বছর আগে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কহিনুরকে নির্যাতন করতেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়। বাড়ি না ছাড়লে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ৭ এপ্রিল রাতে কহিনুর তার মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে বিষয়টি জানায়। পরে ভোরে স্বজনেরা লিটনের বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় কহিনুরের ভাই মো. রহমতউল্লাহ বাদী হয়ে ২০২১ সালের ১১ জুন নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লিটন মিয়াসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে একমাত্র আসামি হিসেবে লিটন মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে আদালত লিটন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!