বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

বিপুল পরিমান সরকারি ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় পিকাপসহ চালক আটক!

রিমল তালুকদার
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ pm
বিপুল পরিমান সরকারি ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় পিকাপসহ চালক আটক!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় পিকআপভ্যানসহ এক চালককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপভর্তি ওষুধসহ চালককে ভূঞাপুর থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কীভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য পাঠানো হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি পিকআপভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নিয়ে যমুনা নদীর তীরে যান চালক। সেখানে ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে স্থানীয়রা পিকআপটি আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে যায়।

আটক পিকআপচালক ও মালিক আজমত দাবি করেন, পিকআপভর্তি ওষুধগুলো ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এর আগেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, আগেরবার ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে এসব ওষুধ ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এবারও একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ যেখানে সাধারণ মানুষ নিয়মিত প্রয়োজন অনুযায়ী পাচ্ছেন না, সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যত্রতত্র ফেলে দেওয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব ওষুধ নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস বা নিষ্পত্তি করার কথা।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ওষুধের পরিমাণ যাচাই করতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভূঞাপুর থানার গোলঘরে পিকআপে থাকা বস্তাগুলোর একটি অংশ খুলে দেখেন। তারা ২০টি বস্তা উন্মোচন করে ওষুধের পরিমাণ যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন আটজন করে ১৫ দিন গণনা করলেও উন্মোচন করা বস্তাগুলোর ওষুধের হিসাব শেষ করা সম্ভব হবে না। তাদের ভাষ্য, পিকআপে এর চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বস্তা রয়েছে।

তবে ঠিক কী পরিমাণ ওষুধ ছিল, সেগুলো কতদিন আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, হাসপাতাল থেকে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ বাইরে নেওয়া হলো এবং কার নির্দেশে যমুনায় ফেলে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট হয়নি।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, “ঘাটাইল হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ এক পিকআপভর্তি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। পরে পুলিশ গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ, সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলার সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!