ঢাকার আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে সে আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানাধীন ধাদাইলের পশ্চিমপাড়া এলাকায় হারুন অর রশিদের ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে শিশু তাসিনের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাসিন ওই এলাকার মোঃ শহিদ মিয়ার পুত্র।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা (মামলা নং-১১৫) দায়ের করেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে উদ্ধার করা আলামত (লাল রঙের শপিং ব্যাগ, প্লাস্টিকের টুকরো) এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে একই ভবনের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। সে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার ছাতাই পাইয়া এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত সাইফুলকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে দুই দফায় মোট দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি একপর্যায়ে শিশু তাসিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং লাশ বস্তাবন্দী করে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে সে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনায় অন্য কোনো সহযোগী বা পেছনের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না তা জানতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।