নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাহারা খাতুন (৬৫) নামে এক নারীকে গলা টিপে ও কুড়ালের আঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর জামাই সাহেদ বিশ্বাসের (৪০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাহেদসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাহারা খাতুন ওই গ্রামের আবদুল মোতালেবের স্ত্রী। আটক সাহেদ বিশ্বাস উপজেলার কাকৈইগড়া এলাকার কাসেম বিশ্বাসের ছেলে। আটক অপর দুজন হলেন সাহেদের তৃতীয় স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (২৭) ও তাঁর মা শাহেরা খাতুন (৫৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে সাহেদ বিশ্বাস সাহারা খাতুনের মেয়ে কুলসুমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাঁদের চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে অসুস্থ হয়ে কুলসুমা মারা যান। এরপর সাহেদ আরও দুটি বিয়ে করেন। সর্বশেষ প্রায় ছয় মাস আগে তিনি তাসলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কুলসুমার মৃত্যুর পর তাঁর ওয়ারিশ সূত্রে সাহারা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় ৩১ শতক জমি পাওয়ার দাবি করেন সাহেদ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় প্রায় এক মাস আগে সাহেদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন সাহারা খাতুন। পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়।
শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে সাহেদ ও সাহারা খাতুনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাহেদ তাঁর শাশুড়িকে গলা টিপে ধরেন এবং পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাহারা খাতুনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সাহেদকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহেদ, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ও মা শাহেরা খাতুনকে আটক করে। তাঁদের হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকায় আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।