মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

নিজস্ব প্রতিনিধি নিজস্ব প্রতিনিধি
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ pm
গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, একই আদেশের বলে নির্বাচন বৈধ হলে গণভোট অবৈধ হতে পারে না।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদায় শহীদ মিনার চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে অবৈধ বললেও একই আদেশের বলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ বলা যায় না। যেই আদেশের বলে একই সঙ্গে গণভোট হলো এবং নির্বাচন হলো, সেই আদেশের নির্বাচন বৈধ হয়, তাহলে গণভোট কীভাবে অবৈধ হয়? এক মায়ের পেট থেকে দুই যমজ সন্তান এসেছে, এক যমজ সন্তান বৈধ আরেকটা অবৈধ—এটা তো কোনোদিন হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয়, তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপি সরকারও অবৈধ। কথা ভেবে-চিন্তে বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসালেও ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে এই গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সংবিধানের প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, ১৭ বছর ধরে সংবিধানের খেলা দেখিয়ে কেউ দেশে ঢুকতে পারেনি। চব্বিশের অভ্যুত্থানকে কোনো সংবিধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। দেশের ও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান হয়, জনগণের ও দেশের ওপরে কোনোদিন সংবিধান হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের আমলের মতো ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়া বর্তমান সরকারও শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেমন এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল, বিএনপিও ২০২৬ সালে ক্ষমতায় এসে একই পথে হাঁটছে। চক্ষুলজ্জার ভয়ে সরাসরি এস আলমকে ফিরিয়ে আনতে না পেরে তার বেয়াই ও শ্বশুরকে এবং দলের নেতাদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা চলছে। এস আলম আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষের প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে উল্লেখ করে তিনি ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতির মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর, রাশেদ খাঁন এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকীর কঠোর সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, সংস্কারের পক্ষে কথা বলা অনেক নেতা আজ প্রতিমন্ত্রীর লোভে বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন। জোনায়েদ সাকিকে সংসদে খুঁজে পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির এমন খারাপ দিন এসেছে যে রাশেদ খাঁনের মতো একজন মিথ্যা প্রোপাগান্ডাবাজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সহকারী বানিয়েছেন।

পঞ্চগড়ে জুলাই আন্দোলনে হামলাকারী ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ নেতার জামিন প্রসঙ্গ টেনে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সারজিস। তিনি বলেন, পুলিশ, জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে হাইকোর্টের বিচারক—যাঁরা এখনো মনে মনে আওয়ামী লীগের দালাল হিসেবে কাজ করছেন, আগামীতে তাঁদের প্রত্যেকের নাম পোস্টার করে দেওয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলীয় দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ছিল, এখন নেই। বিএনপি আজ আছে, আগামীতে নাও থাকতে পারে। কিন্তু জনগণ থাকবে, রাষ্ট্র থাকবে। তাই কোনো দলের বা ব্যক্তির দালাল না হয়ে জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!