বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

জন্মদিনে স্মরণ ‘মিয়াভাই’ ফারুককে, রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের স্মৃতি আজও অমলিন

তানিয়া আক্তার ফারজানা
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ pm
জন্মদিনে স্মরণ ‘মিয়াভাই’ ফারুককে, রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের স্মৃতি আজও অমলিন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ‘মিয়াভাই’খ্যাত আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের ৭৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতা। ২০২৩ সালের ১৫ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাই তাঁর জন্মদিনটি এখন ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছে তাঁকে স্মরণ করার বিশেষ দিন হিসেবে ফিরে আসে।

ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান। চলচ্চিত্রে তিনি ‘ফারুক’ নামেই পরিচিতি পান। শৈশব-কৈশোর ও যৌবনের বড় একটি সময় কেটেছে পুরান ঢাকায়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নেন। ১৯৭১ সালে পরিচালক এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় ফারুকের। তাঁর প্রথম সিনেমায় নায়িকা ছিলেন কবরী। এরপর ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সারেং বউ’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘সখী তুমি কার’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।

গ্রামীণ ও সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ফারুক ছিলেন বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাঁর অভিনীত ‘সুজন সখী’সহ বেশ কিছু সিনেমা তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘মিয়াভাই’ চরিত্র ও চলচ্চিত্রের কারণে দর্শকদের কাছে তিনি ‘মিয়াভাই’ নামেই ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান ফারুক। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ফারুক। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ফারুক ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্মদিন বড় করে উদযাপন করতেন না। বিভিন্ন সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে দেখার কারণে ১৯৭৫ সালের পর থেকে তিনি নিজের জন্মদিন উদযাপনে আগ্রহী ছিলেন না। ২০২৩ সালের ১৫ মে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফারুক। পরে তাঁকে গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ তাঁর ৭৮তম জন্মদিনে চলচ্চিত্র প্রেমীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রিয় ‘মিয়াভাই’ ফারুককে। তাঁর অভিনীত সিনেমা ও চলচ্চিত্রে রেখে যাওয়া অবদান নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!