তানিয়া আক্তার ফারজানা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবারের এই ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রভাবে রুটেং ও মাংগারাইসহ ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাগেওকেও এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত হয়।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তুলনামূলক অগভীর, প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী কম্পনের পর একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। সোমবার সকালেও ওই অঞ্চলের কাছে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়েছে।মাংগারাইয়ের রুটেং শহরে ভূমিকম্পের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। বেন এমবোই মাংগারাই আঞ্চলিক হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে রোগীদের সরিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
রুটেংয়ের ফ্রান্স সেলেস লেগা বিমানবন্দরেও ভূমিকম্পের পর ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে।
ঘরছাড়া হাজারো মানুষ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে সোমবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অনেকে স্কুল, পুলিশ স্টেশন ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শত শত বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় অস্থায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর হাজারের কাছাকাছি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালানো এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটও উদ্ধার তৎপরতায় সমস্যা তৈরি করছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাবার, পানি, তাঁবু ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে নতুন করে দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি ও উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।