টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
মার্কিন চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। আজ ১৭ আগস্ট, ২০২৬-তার ৮৩তম জন্মদিন। দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন। অভিনেতার পাশাপাশি তিনি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও সফল। রবার্ট ডি নিরোর পুরো নাম রবার্ট অ্যান্থনি ডি নিরো জুনিয়র। তিনি ১৯৪৩ সালের ১৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রবার্ট ডি নিরো সিনিয়র ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর এবং মা ভার্জিনিয়া অ্যাডমিরাল ছিলেন চিত্রশিল্পী ও কবি।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। অভিনয়ের দক্ষতা বাড়াতে তিনি এইচবি স্টুডিও, স্টেলা অ্যাডলার কনজারভেটরি এবং লি স্ট্রাসবার্গের অ্যাক্টরস স্টুডিওতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬০-এর দশকে চলচ্চিত্রে তার অভিনয়জীবন শুরু হলেও ১৯৭৩ সালে ‘ব্যাং দ্য ড্রাম স্লোলি’ এবং মার্টিন স্করসেসের ‘মিন স্ট্রিটস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান।
পরবর্তীতে পরিচালক মার্টিন স্করসেসের সঙ্গে তার দীর্ঘ ও সফল সহযোগিতা হলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা-পরিচালক জুটিতে পরিণত হয়। ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘রেজিং বুল’, ‘দ্য কিং অব কমেডি’, ‘গুডফেলাস’, ‘কেপ ফিয়ার’সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে তাদের কাজ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
১৯৭৪ সালের ‘দ্য গডফাদার পার্ট টু’ চলচ্চিত্রে তরুণ ভিটো কর্লিয়নের চরিত্রে অভিনয় করে রবার্ট ডি নিরো প্রথমবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে তিনি বিশেষ ইতিহাসও তৈরি করেন ইতালীয় ভাষায় অভিনয় করে অস্কারজয়ী প্রথম পুরুষ অভিনেতা হন তিনি।
এরপর ১৯৮০ সালের ‘রেজিং বুল’ চলচ্চিত্রে বক্সার জেক লামোটার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার পান। চরিত্রটির জন্য নিজের শারীরিক পরিবর্তন এবং অভিনয়ের গভীরতা তাকে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়। রবার্ট ডি নিরোর ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। এর মধ্যে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ (১৯৭৬), ‘দ্য ডিয়ার হান্টার’ (১৯৭৮), ‘রেজিং বুল’ (১৯৮০), ‘দ্য কিং অব কমেডি’ (১৯৮২), ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন আমেরিকা’ (১৯৮৪), ‘দ্য আনটাচেবলস’ (১৯৮৭), ‘গুডফেলাস’ (১৯৯০), ‘কেপ ফিয়ার’ (১৯৯১), ‘হিট’ (১৯৯৫), ‘ক্যাসিনো’ (১৯৯৫), ‘জ্যাকি ব্রাউন’ (১৯৯৭), ‘রনিন’ (১৯৯৮) এবং ‘জোকার’ (২০১৯) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে ‘মিডনাইট রান’, ‘অ্যানালাইজ দিস’, ‘মিট দ্য পেরেন্টস’ সিরিজ এবং ‘দ্য ইন্টার্ন’-এর মতো সিনেমায় তার হাস্যরসাত্মক অভিনয়ও দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
দুইবার অস্কার জয়ের পাশাপাশি ডি নিরো আরও বেশ কয়েকবার একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘দ্য ডিয়ার হান্টার’, ‘অ্যাওয়েকেনিংস’, ‘কেপ ফিয়ার’, ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’ এবং ‘কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে মনোনয়ন পান।
‘দ্য আইরিশম্যান’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক হিসেবেও তিনি সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন।
শুধু অভিনয় নয়, নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ডি নিরো। ১৯৯৩ সালে ‘এ ব্রঙ্কস টেল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে ২০০৬ সালে ‘দ্য গুড শেফার্ড’ পরিচালনা করেন। ১৯৮৯ সালে প্রযোজক জেন রোজেনথালের সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ট্রাইবেকা প্রোডাকশনস’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০২ সালে ডি নিরো, জেন রোজেনথাল এবং ক্রেগ হ্যাটকফ মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ট্রাইবেকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। পরবর্তীতে এটি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত চলচ্চিত্র উৎসবে পরিণত হয়। বড় পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনেও অভিনয় করেছেন ডি নিরো। ২০১৭ সালের এইচবিও চলচ্চিত্র ‘দ্য উইজার্ড অব লাইস’-এ কুখ্যাত অর্থ প্রতারক বার্নি ম্যাডফের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই অভিনয়ের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।