দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি শরীফ ওমর টুটুলের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলকে দেখতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো রামদা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদ মন্ডল ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, টুটুলকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা হামিদ মন্ডল বলেন, “আমি পাশেই ছিলাম, তবে কে আঘাত করেছে তাকে আমি চিনি না।”
আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পর সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিক টুটুলের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ঘটনায় কারও রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিক নেতারা জানান, হামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে গাজীপুরসহ দেশব্যাপী সাংবাদিকদের নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে।
এদিকে আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।