বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

মাদারগঞ্জে ১৫ প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ও সমমানের ফলে চরম বিপর্যয়

মোঃ আলমগীর হোসাইন
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ pm
মাদারগঞ্জে ১৫ প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ও সমমানের ফলে চরম বিপর্যয়
মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১১১ জন। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত পাসের হার ২৫.২৮ শতাংশ। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্যমতে, নিশ্চিন্তপুর-কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ২ জন। লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫ জন। বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জনের মধ্যে ৩ জন এবং খিলকাটি আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে ২৮ জনের মধ্যে ৬ জন পাস করেছে।

এ ছাড়া তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৮ জনের মধ্যে ২৩ জন, ইসলামাবাদ ওয়াসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৮ জনের মধ্যে ১০ জন, লোটাবর ছেরাতুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৬ জনের মধ্যে ১৪ জন, কলাদহ মির্জা গোলাম মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭২ জনের মধ্যে ১৮ জন এবং তাহমিনা হাসান আলী আমিনুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জন কৃতকার্য হয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জনের মধ্যে ৫ জন, গুনারীতলা উচ্চ বিদ্যালয় (কারিগরি) থেকে ৫ জনের মধ্যে ২ জন, ফুলজোর রহিম জাফর উচ্চ বিদ্যালয় (কারিগরি) থেকে ৩ জনের মধ্যে ১ জন এবং চরনাংলা বেসরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬ জনের মধ্যে ২ জন পাস করেছে।

দুটি দাখিল মাদরাসার ফলও সন্তোষজনক নয়। বি.ঘু.ন.ম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা (ভোকেশনাল) থেকে ৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন এবং চরপরতাজু দাখিল মাদরাসা থেকে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন পাস করেছে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাদারগঞ্জ উপজেলা থেকে ৩ হাজার ২৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ জন। পাসের হার ৪৫.৭৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন।

তবে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। ৬৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৯৮ জন। এখানে পাসের হার ৭৮.১৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৪৫ জন। পাসের হার ৬০.৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

উপজেলায় একটি মাদরাসা ও দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। রাবেয়া রইচ বালিকা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও নব্যচর বি.এম. স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩ জন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে চরলোটাবর দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে।

অভিভাবকদের দাবি, শুধু ফল প্রকাশের পর ব্যর্থতার কারণ না খুঁজে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত একাডেমিক তদারকির আওতায় আনা প্রয়োজন।

ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে নিশ্চিন্তপুর-কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, "দুর্বল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় ফলাফলে এমন বিপর্যয় হয়েছে।"

লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনোযোগী। এ বিষয়ে অভিভাবকদের ডেকে একাধিকবার জানানো হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।"

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!