টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৭০ জনের বেশি। ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাজারের বেশি বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৯৬ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই কম্পন দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয় এবং দূরের কিছু প্রতিবেশী অঞ্চল থেকেও এর কম্পন টের পাওয়া যায়।
ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫৭৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি বিমানবন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দেশটির বিভিন্ন শহরে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়া সরকার জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সবচেয়ে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্যালি ও পেরেইরাসহ কয়েকটি এলাকায়ও ভূমিকম্পের প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে কলম্বিয়ার মানুষের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কলম্বিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সংকটের এই সময়ে ফ্রান্সের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা দেশটির পাশে থাকবে। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।