বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

নওগাঁর নিয়ামতপুরে তিন প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল

আব্দুল্লাহ আল মাহীদ
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ am
১২
নওগাঁর নিয়ামতপুরে তিন প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো - পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

জানা গেছে, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯ জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ৭ জন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তিন প্রতিষ্ঠানের ৩১ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০০২ সালে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। তবে নবম ও দশম শ্রেণি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও নবম ও দশম শ্রেণির কোনো শিক্ষক নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরাও এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী নয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো পাকা ভবন নেই। মাটির ঘর ও টিনের শেডে পাঠদান করতে হয়। শিক্ষকদের বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা ও কমন রুমও নেই। গ্রীষ্মে ঝড় এবং বর্ষায় বৃষ্টির সময় পাঠদান ব্যাহত হয়। এসব কারণে ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায় না। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ফলাফলেও।

২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজে ২০১১ সালে নবম-দশম শ্রেণিতে ভোকেশনাল শাখা চালু করা হয়। তবে চালুর পর প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শাখাটি এখনো নন-এমপিও অবস্থায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মজনুর রহমান মন্ডল বলেন, ভোকেশনাল শাখা চালুর পর থেকে কোনো শিক্ষক এমপিওভুক্ত হননি। ফলে কলেজ শাখার শিক্ষকদের দিয়েই ভোকেশনাল বিভাগের ক্লাস পরিচালনা করতে হয়।

তিনি বলেন, ভোকেশনাল শাখায় সাধারণত কর্মজীবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে আগ্রহী না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ভোকেশনাল শাখা এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এবারের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসতে চায় না। পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যা। অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি শূন্য ছিল। একই সঙ্গে একাডেমিক সুপারভাইজারও ছিলেন না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ও যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি উপজেলায় একজন একাডেমিক সুপারভাইজার যোগদান করেছেন। এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং আরও বাড়ানো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি সব মিলিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!