রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ শহরের ৯ হোটেলে গভীর রাতের অভিযান, প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

Author
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ pm
পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ শহরের ৯ হোটেলে গভীর রাতের অভিযান, প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁ শহরে প্রতারণা ও রাসায়নিক স্প্রে (কথিত 'শয়তানের নিঃশ্বাস') প্রয়োগের অভিযোগে সংঘটিত দুটি পৃথক ঘটনার তদন্তে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে প্রতারণা চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। অভিযানে চুরি হওয়া স্বর্ণের একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন ২০২৬ নওগাঁ সদর থানার এলাকায় একই দিনে দুটি পৃথক প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনায়, নওগাঁ শহরের চুরিপট্টির ভেতরে নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে অচেতন করে। পরে তাকে কৌশলে একটি রিকশায় তুলে নিয়ে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে ডিগ্রীর মোড় এলাকার একটি স্থানে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন ২০২৬ তিনি মারা যান।

দ্বিতীয় ঘটনায়, এক বৃদ্ধ দম্পতি ছেলের বাড়িতে যাওয়ার পথে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রলোভন সৃষ্টি করে এবং রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সম্মোহিত করে জোরপূর্বক ৬ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায়।

এ দুটি ঘটনার পর নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান-এর নেতৃত্বে ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নওগাঁ রেস্টহাউস হোটেল এবং শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাইবান্ধার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় স্বর্ণপট্টি এলাকার মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকেও আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আরও কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে দ্বিতীয় ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা স্বর্ণের বারের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন।

তদন্তে জানা যায়, দ্বিতীয় ঘটনায় নেওয়া স্বর্ণের কানের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় প্রায় ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!