একটি পরিবার তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন কিনা, সেই আশঙ্কায় উদ্বিগ্নভাবে কান পেতে আছে। তারা বিবিসিকে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে তারা তার ‘গোঙানির’ শব্দ শুনেছেন।
৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদুয়ার্দো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তার পরিবার দুদিন ধরে তাকে ডেকে চলেছে।
তার চাচাতো ভাই উদ্বিগ্নভাবে বলেন, ‘কমবেশি দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার আওয়াজ শুনতে পাই। আসলে, সে ঠিক কথা বলেনি, শুধু গোঙাচ্ছিল।’
এরপর থেকে সে আর সাড়া দেয়নি।
স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল এবং গন্ধ শুঁকে শনাক্তকারী কুকুর ভবনটিতে পৌঁছালেও প্রাণের কোনো চিহ্ন না পেয়ে তারা ফিরে যায়।
কিন্তু কার্লোসের পরিবার তাকে খুঁজে বের করার জন্য সেখানেই রয়ে গেছে এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা এখনও তাকে জীবিত উদ্ধার করার আশায় আঁকড়ে ধরে আছে।
৭ দশমিক ২ ও ৭দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানে, যখন বেশিরভাগ মানুষ জাতীয় ছুটির জন্য বাড়িতে ছিলেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা রাজ্য।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর তৃতীয়দিনের মতো উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধান করছেন।
তাদের মধ্যে ছিল এক নবজাতক শিশু, যাকে এক আবেগঘন উদ্ধারের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত করা হয়, যা দেখে ত্রাণকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন লা গুয়াইরা রাজ্যে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৪,০০০ কর্মী রাস্তায় টহল দিচ্ছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।