"কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ"—এই আপ্তবাক্যটিকে বুকে ধারণ করে নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষিখাতকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন সেখানকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। পদমর্যাদায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলেও কৃষকদের কাছে তিনি একজন আপন 'ভাই'। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, সৌজন্যমূলক আচরণ এবং সংকটকালীন দূরদর্শী পদক্ষেপে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিসের সেবার চিত্র।
অহংকারের প্রতীক ও ব্যতিক্রমী সেবামূলক আচরণ
উপজেলা কৃষি অফিসে সেবা নিতে আসা কৃষকদের সাথে তাঁর প্রতিটি দিন কাটে আন্তরিকতায়। চিরাচরিত সরকারি আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার বাইরে এসে তিনি কৃষকদের সাথে কোনো দূরত্ব রাখেন না। কৃষকদের অভিযোগ বা সমস্যার কথা শোর সময় "স্যার" সম্বোধনের চেয়ে "ভাই" হয়ে পাশে দাঁড়াতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, তাঁদের দীর্ঘ জীবনে এমন মানবিক ও কৃষকমুখী কর্মকর্তা তাঁরা খুব কমই দেখেছেন। তিনি কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, বরং নিয়ামতপুরের কৃষকদের অহংকার।
সার সংকটে মানবিক ও বাস্তবমুখী ভূমিকা
বর্তমানে দেশজুড়ে সার ব্যবস্থাপনা যখন কৃষকদের অন্যতম প্রধান চিন্তার কারণ, তখন নিয়ামতপুরে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। কোনো কৃষক যদি ডিলার মারফত প্রয়োজনীয় সার পেতে ব্যর্থ হন, তবে সরাসরি কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হতে পারেন। সংকটকালীন মুহূর্তে কোনো কৃষককে তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। যেখানে ১০ বস্তা সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে তিনি নিজ দায়িত্বে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব জরুরি সারের ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর এই আন্তরিক আশ্বাস ও সংকটকালীন সহযোগিতা কৃষকদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
সোনার বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা
উপজেলার সর্বস্তরের কৃষকদের একবাক্যে স্বীকারোক্তি—যদি দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে এমন দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক অফিসার থাকতেন, তবে 'সোনার বাংলা' গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হতো না। তাঁর এই গণমুখী কর্মকাণ্ড অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।