বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

অনিরাপদ ড্রামে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ বন্ধের দাবি, ফরিদপুরে ক্যাবের এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

মামুন মিঞা
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ pm
অনিরাপদ ড্রামে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ বন্ধের দাবি, ফরিদপুরে ক্যাবের এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দাবিতে ফরিদপুরে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ সভাটি সঞ্চালনা করেন।

সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপদ পাত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, একদিনে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তুলনামূলক কম বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

আলোচনায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পোড়া তেলে তৈরি পুরি, সিঙাড়াসহ বিভিন্ন খাবারের বিষয়েও সতর্ক করা হয়। বক্তারা এসব খাবার তৈরিতে নিরাপদ ও মানসম্মত তেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।

মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসক, আইনজীবী, বিএসটিআই কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত বাজার তদারকি, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা, নিরাপদ পাত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা শুধু সরকারি সংস্থার দায়িত্ব নয়। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল্লাহ্ আল মাতিন, সরকারি ইয়াসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস, ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ্ আল মামুনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন, সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল ও এস এম মনিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজীব, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানসহ ক্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!