মহাসড়ক যেন ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা
শ্রীপুর (গাজীপুর) মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশে অব্যবস্থাপনার চিত্র এখন জনদুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়কের ওপর ও পাশে ট্রাকভর্তি বর্জ্য ফেলে রাখার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই চার লেনের সড়ক কার্যত এক লেনে সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে,আবর্জনার তীব্র গন্ধে পথচারী ও স্থানীয়রা অতিষ্ঠ।
শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় দেখা যায়, মহাসড়কের একাধিক স্থানে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও বর্জ্যের স্তূপ এতটাই বড় আকার ধারণ করেছে যে সড়কের তিনটি লেন প্রায় সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চার লেনের মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চালকদের বাধ্য হয়ে একটি সরু লেন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চালকদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক ট্রাক ও বাসকে এক পাশের চাকা ময়লার স্তূপের ওপর তুলে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চালকদের ভাষ্য, সামান্য অসাবধানতা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে বর্জ্য এনে মহাসড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে সড়কের ওপর ও আশপাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন বর্জ্যের স্তূপ বড় হচ্ছে এবং যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধে আশপাশের বসবাসকারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, দুর্গন্ধ ও যানজটের কারণে অনেক ক্রেতা ওই এলাকায় আসতে অনাগ্রহী হচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
এদিকে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও মহাসড়কের এই অংশে নতুন করে বর্জ্য ফেলা সেই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একদিকে পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নতুন বর্জ্য এসে জমা হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ময়লা অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় এক পাশে বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। তবে ময়লাবাহী গাড়ির চালকদের অসাবধানতার কারণে কিছু বর্জ্য মহাসড়কের ওপর পড়ে গেছে। অপসারণকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগায় সাময়িকভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়কে পড়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৌরসভা কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়।
সড়ক ব্যবহারকারীদের মতে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। তাই মহাসড়কের ওপর বর্জ্য ফেলে রাখা শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিশেষ করে রাতের বেলায় বা বৃষ্টির সময় ময়লার স্তূপ স্পষ্টভাবে দেখা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মহাসড়ক থেকে সব বর্জ্য অপসারণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে মহাসড়কের ওপর কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলতে না দেওয়ার জন্য কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যানজট, পরিবেশ দূষণ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বশীল পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করা সম্ভব হবে