দীর্ঘ ৩০ বছর পর ঘুরে দাঁড়ানো: আওয়ামী লীগের ঘাটিতে বিএনপির বিজয়।
আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।
রাজনীতির মঞ্চে কখনো কোনো আসন চিরস্থায়ী কারও দখলে থাকে না—এই চিরন্তন সত্যই আবারও প্রমাণিত হলো। দীর্ঘ তিন দশক ধরে যে আসনকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অদম্য ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিজয় নিছক একটি নির্বাচনী ফল নয়; এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
৩০ বছর ধরে একটি দলের প্রভাব বলয় অটুট থাকা মানে সেখানে সংগঠন, প্রভাব ও ঐতিহ্যের গভীর শিকড় রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিরোধী শক্তির জয় শুধু ভোটের অঙ্কে নয়, মনস্তত্ত্বেরও এক বড় পরিবর্তন। ভোটাররা হয়তো উন্নয়ন, নেতৃত্বের ধরন, স্থানীয় ইস্যু কিংবা জাতীয় রাজনীতির প্রভাব—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। গণতন্ত্রে এই পরিবর্তনের সুযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশেষ করে রায়পুরায় এই রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশাবুদ্দিন বকুল। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের তৃণমূল যোগাযোগ এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার সক্ষমতার ফলেই রায়পুরায় বিএনপির হারানো গৌরব তিন দশক পর পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সময় পর এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি আসনের জয় নয়; এটি সংগঠনের পুনর্জাগরণের প্রতীক।
তবে বিজয় যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্বেরও। বিএনপির জন্য এ জয় উদযাপনের পাশাপাশি প্রত্যাশার পাহাড়। দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষের ঘাঁটিতে জয় মানে জনগণের কাছে নতুন আস্থা অর্জন। রায়পুরার মানুষ এখন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান। সেই আস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর জন্যও এটি আত্মসমালোচনার সময়। দীর্ঘদিনের প্রভাব হারানো মানে সংগঠন, কৌশল ও জনসম্পৃক্ততার জায়গায় পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। গণতন্ত্রে পরাজয় স্থায়ী নয়, যদি তা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় কথা, এই ফলাফল প্রমাণ করে—ভোটই শেষ কথা। জনগণই ক্ষমতার উৎস। তাদের রায় কখনো স্থির নয়; তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। তাই যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, মনে রাখতে হবে—আস্থা অর্জন কঠিন, ধরে রাখা আরও কঠিন।
দীর্ঘ ৩০ বছর পরের এই পরিবর্তন শুধু একটি আসনের নয়; এটি রাজনৈতিক বার্তা—জনগণ পরিবর্তন চায়, জবাবদিহিতা চায়, কার্যকর নেতৃত্ব চায়। এখন দেখার বিষয়, ইঞ্জিনিয়ার আশাবুদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে রায়পুরার মানুষ তাঁদের আশা-কাঙ্ক্ষার কতটুকু বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পান।
