সুন্দরগঞ্জে পানকৌড়সহ বিভিন্ন জাতের ধবল বক উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে
বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন, রিপোর্টারঃ
চারদিকে সবুজের সমারোহ তিস্তার শাখা নদীর মাঝে খানে খাবার সংগ্রহে এক ঝাক বেঁধে নেমেছে পানকৌড়। নদীপাশে দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের মাঠের বড় বড় ইনট্রি গাছে বাসা বেঁধে রয়েছে তার পাশে রয়েছে ছোট্র বাঁশঝাড়। এই বাঁশঝাড় থেকে উঁকি দিচ্ছে পানকৌড়িসহ বিভিন্ন জাতের ধবল বক, ডাহুক, কোড়া, রাতচরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুইসহ নাম না জানা আরও অনেক পাখি।
বিকেলের সোনালী রোদে গাছের ডালে ডালে পানকৌড়ির পালক জ্বলজ্বল করছে। এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে সুুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের ৯ নং ওয়ার্ডে।
ওই ওয়ার্ডটি বর্তমানে পাখিলাগা মহল্লা নামে পরিচিত হচ্ছে । এখানে প্রতিদিনই পাখি দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার পাখি প্রেমীরা।
পাখিগুলো প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে আসে এবং আশ্বিনের শেষের দিকে চলে যায়। এই মহল্লার একটি ইনট্রি গাছের পাশাপাশি ছোট্র ছোট্র বাঁশঝাড়ে গড়ে উঠেছে পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্য। পাখি গুলো কয়েক বছর আগেই যেনো হারিয়ে গিয়েছিলো। প্রায় ৩বছর ধরে আবার এখানে বসবাস করছে। রাতে পাখি গুলো বাঁশ ঝাড়ে থাকে ভোর হলেই কিচিরমিচির শব্দ করে উড়ে যায় খাবাবের সন্ধানে।
প্রতিদিন সকালে এসব পাখির কলকাকুলিতে মহল্লার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে।
পাখি প্রেমী ওই ছোট্র বাশঁঝাড়ের মালিক পল্লী চিকিৎক আব্দুল গফ্ফার বলেন, পাখিদের আবাসন এবং খাওয়া গোসলের অসুবিধার কারণে পাখি গুলোকে আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পাখির নিরাপদ অভায়ারণ্য, খাওয়া ও গোসলেন জন্য তিস্তা শাখা নদীটি খনন করা দরকার। পাখি যাতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সেজন্য গাছের চারা লাগানো প্রয়োজন। রাতে শিকারিরা যেন পাখি শিকার করতে না পারে তাই চারদিক আলোকিত করার জন্য সোলারের ব্যবস্থা করা হলে এই পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয় পাবে। আমার নতুন বসতভিটার উপরে আম ও নারিকেল গাছসহ ছোট্র বাশঁবাগানে বিভিন্ন ধরনের পাখির আবাসস্থান হিসেবে প্রায় ৩ বছর ধরে পাখি গুলো নিরাপদ ভাবে বসবাস করছে। কিছু মানুষ ফাঁদ বসিয়ে পাখি গুলো শিকারের চেষ্টা করেন। পাখি গুলো শিকার না করার জন্য বলা হলেও তারা কোন কথা শুনেছেন না ।
পৌরমেয়র আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য বর্তমানে দেখতে পাওয়া বড়ই কঠিন। আমার বসতবাড়ী এই ওয়ার্ডে আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে একটু হাটি মহল্লার ভিতর সকাল সন্ধ্যায় শত শত পাখির কলতানের শব্দ অন্য রকম এক আবহ তৈরি করে। আর তা খুবই আনন্দদায়ক ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ মনে হয় আমার। পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই পাখিদের প্রতি সবাইকে সহনশীল হতে হবে। পাশাপাশি পাখি গুলোর নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার জানান, আমাদের ভবনের পাশেই এই নদীতে পাখি গুলো খাবার সংগ্রহের জন্য আশে মনোমুগ্ধকর। এই এলাকায় পাখির আবাসস্থল গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক ভাবেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদের পক্ষ থেকে পাখিদের অভায়াশ্রম নিরাপত্তায় সব সময় খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তবে পাখিগুলো রক্ষার্থে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাখি গুলোকে ফাঁদ বা অন্য কিছু দ্বারা শিকার করতে না পারে এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি। দীর্ঘদিন থেকেই পাখিরা এখানে বসবাস করছে। আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।
