(লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ-এর মেয়ে ও মেয়ে জামাই এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এ বি এম কামরুল হাসান, তিনি তোফায়েল পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।)
তোফায়েল আহমেদ কি ক্লিনিক্যালি ডেড?
আমরা প্রায়ই মৃত্যু নিয়ে দুটি শব্দ শুনে থাকি- ক্লিনিকাল ডেথ ও ব্রেন ডেথ। চলুন সহজভাবে বুঝে নিই, এদের অর্থ কী।
ক্লিনিকাল ডেথ হলো এমন এক অবস্থা, যখন একজন মানুষের হৃদযন্ত্রের স্পন্দন থেমে যায়, শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় মানুষকে “ক্লিনিক্যালি মৃত” বলা হয়। তবে এটিকে বলা যায় অস্থায়ী মৃত্যু – কারণ দ্রুত চিকিৎসা (যেমন CPR বা হার্ট পাম্প করা) দিলে আবারও জীবিত হয়ে ওঠা সম্ভব। যেমন, কেউ হার্ট অ্যাটাকে পড়ে অচেতন হয়ে গেলে, দ্রুত CPR দিলে তিনি আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেন। অর্থাৎ, কিছু সময়ের জন্য তিনি “ক্লিনিক্যালি ডেড” ছিলেন।
ব্রেন ডেথ হলো এমন অবস্থা, যখন একজন মানুষের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় – তিনি নিজে শ্বাস নিতে পারেন না, শরীরে কোনো নড়াচড়া বা প্রতিক্রিয়া থাকে না, এবং এ অবস্থা থেকে কখনোই ফিরে আসা সম্ভব নয়। এটি চিকিৎসা ও আইন উভয় দিক থেকেই চূড়ান্ত মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট আইন নেই যা বলে দেয় – “ব্রেন ডেথ ছাড়া ভেন্টিলেটর বন্ধ করা যাবে” বা “যাওয়া যাবে না।” তবে চিকিৎসা নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন ডেথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভেন্টিলেটর বন্ধ করা যায় না।
এখন প্রশ্ন — তোফায়েল আহমেদ কি মারা গেছেন? তিনি কি ক্লিনিক্যালি ডেড, না ব্রেন ডেড?
তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন। ভেন্টিলেটর তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করছে, কিন্তু হৃদযন্ত্র এখনো চলছে। বর্তমানে (সকাল সাড়ে আটটার তথ্য অনুযায়ী) তিনি ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে পারছেন – যদিও লাইফ সাপোর্টের শুরুর দিকে তাঁকে দুটি ওষুধ দিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ মাঝে মাঝে উঠানামা করছে।
তাঁর শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, এখনো থেমে যায়নি। অতএব, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তিনি ক্লিনিক্যালি ডেড নন এবং ব্রেন ডেডও নন।
তবে তিনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। যে কোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এমন কিছু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
আমরা সেই সংবাদ না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবো, গুজব ছড়াবো না। আল্লাহ যেন তাঁকে সহনশীলতা ও আরোগ্য দান করেন, এ প্রার্থনা করি। আমিন।
